:

নির্বাচন আয়োজনে চট্টগ্রামে প্রস্তুতি শেষ:২৫টি দলের ১১৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে

top-news

আর এক দিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনে চট্টগ্রামে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে রিটানিং অফিসার কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশন।

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপি-জামায়াতসহ ছোটবড় ২৫টি দলের  ১১৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ১হাজার ৯৬৫ কেন্দ্রের এই ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে সাড়ে ৬শ’বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন ও আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনী। 

এদিকে চট্টগ্রাম এম আজিজ স্টেডেয়াম সংলগ্ন জেমনেসিয়ামে স্থাপন করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোলরুমে সকাল থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রস্তুতি নিয়ে। আগামীকাল বুধবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হবে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

রিটানিং অফিসারের তথ্য অনুযায়ী, রিটানিং অফিসার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ ছোট-বড় ২৫টি রাজনৈতিক দলের ১১৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চট্টগ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬৬ লাখ ১৬ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার , নারী ভোটার ৩১ লাখ ৭৯ হাজার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন।

এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ৫৮টি কম। ভোট কক্ষ প্রায় ১২ হাজার। এর মধ্যে মহানগরী এলাকায় ৫টি সংসদীয় আসনে ৬০৭টি, জেলায় ১১টি সংসদীয় আসনে ১হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্র রয়েছে। মহানগরী এলাকায় ঝঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৩১০টি, অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ-১৫০টি এবং সাধারণ ১৪৭টি।

জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ১হাজার ৩৫৮টি আসনের মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪৫টি কেন্দ্র, কম ঝুঁকিপুর্ণ ৬৮৮ এবং সাধারণ ৩২৭টি কেন্দ্র। জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে  সাতকানিয়া–লোহাগাড়া: ৬৮টি,  সীতাকুন্ডে: ৪৮টি, চন্দনাইশ: ৪২টি,  বাঁশখালী: ৪১টি, হাটহাজারী: ৩০টি, বোয়ালখালী: ২৫টি, সন্দ্বীপ ও পটিয়া: ২৪টি করে, রাউজান: ২১টি, আনোয়ারা: ১৩টি, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া: ৬টি, ভূজপুর: ৩টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

নির্বাচনী আসন অনুযায়ী ভোট কেন্দ্র গুলির মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম-১: ১০৬টি, চট্টগ্রাম-২: ১৪১টি, চট্টগ্রাম-৩: ৮৩টি, চট্টগ্রাম-৪: ১২৪টি, চট্টগ্রাম-৫: ১৪২টি, চট্টগ্রাম-৬: ৯৫টি, চট্টগ্রাম-৭: ৯২টি, চট্টগ্রাম-৮: ১৭৯টি, চট্টগ্রাম-৯: ১২১টি, চট্টগ্রাম-১১: ১৩৯টি, চট্টগ্রাম-১২: ১৪৩টি, চট্টগ্রাম-১৩: ১১৩টি, চট্টগ্রাম-১৪: ১০০টি, চট্টগ্রাম-১৫: ১৫৭টি, চট্টগ্রাম-১৬তে ১১২টি।

জেলা রিটানিং অফিসার ও  জেলা প্রশাসক জাহেদুল ইসলাম ভুইয়া জানান, অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে এরমধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রকে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। নির্বাচনে ১০০জন ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। আইন শৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যের পাশাপাশি থাকবে সেনা সদস্যরাও। উৎসব মুখর পরিবেশে যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ সেসব কেন্দ্রে  ৪ জন অস্ত্রধারী পুলিশ, ২ জন অস্ত্রধারী আনসার, ১০ জন লাঠিসহ পুলিশ ও মহিলা আনসার দায়িত্ব পালন করবে। অন্য কেন্দ্রগুলোতেও থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে বলে জানিয়েছে রিটানিং অফিসারের কার্যালয়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *