:

বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবসে রুশ রাষ্ট্রদূতের উষ্ণ অভিনন্দন ও অটুট বন্ধুত্বের বার্তা

top-news

বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশটির জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঢাকাস্থ রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত। এক বিশেষ বার্তায় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরত্বগাথা স্মরণ করার পাশাপাশি দুদেশের ঐতিহাসিক ও অটুট বন্ধুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

রুশ রাষ্ট্রদূত তাঁর বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের পথ ছিল অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। ব্রিটিশদের ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’ নীতির ফলে সৃষ্ট চরম উত্তেজনাই মূলত এই ভূখণ্ডে মুক্তি সংগ্রামের বীজ বপন করেছিল। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের আপামর জনতাকে এক অভিন্ন লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমতা, সংস্কৃতি রক্ষা এবং নিজেদের ভাগ্য নিজেরা গড়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই ছিল এই জাতীয় আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।

বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের অসামান্য অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর মতো সংকটকালীন সময়েও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল বিশ্ব গড়ের চেয়ে অনেক বেশি।
শিল্পায়ন: বাংলাদেশ আজ বিশ্বমানের শিল্পোৎপাদন বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বিশ্ব নেতৃত্বে আসীন।
ঐতিহ্য রক্ষা:সুন্দরবন থেকে শুরু করে রিকশা পেইন্টিংয়ের মতো ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আজ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, "আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আজ 'গ্লোবাল সাউথ'-এর শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ২ লাখের বেশি সদস্য পাঠিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তায় যে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখছে, তা অত্যন্ত গর্বের।

১৯৭২ সালের ২৫শে জানুয়ারি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তটি স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত বিশেষজ্ঞরা জীবন বাজি রেখে কাজ করেছিলেন। সেই অবদানের কথা আজও বাংলাদেশিরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে।

বর্তমানে রাশিয়া বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে যৌথ প্রকল্প ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগে কাজ করতে উন্মুখ বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়। রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের এই দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন সাফল্যের দুয়ার উন্মোচন করবে।

পরিশেষে, তিনি বাংলাদেশের সকল ‘বন্ধুদের’ সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে তাঁর অভিনন্দন বার্তা সমাপ্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *