আগ্নেয়গিরির চূড়ায় বিশ্ব:পরাশক্তিগুলোর আধিপত্যের লড়াইয়ে জিম্মি বিশ্বশান্তি
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 21 Jun, 2026
চলতি ২০২৬ সালের মধ্যভাগে এসে গোটা বিশ্বের ভূরাজনীতি যেন এক চরম অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও শীর্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত করছে যে, পৃথিবী এখন এক বহুমুখী মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পরাশক্তিগুলোর আধিপত্যের লড়াইয়ে জিম্মি হয়ে পড়েছে বিশ্বশান্তি।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র মোড় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক গোপন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MOU) বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে।
সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান এই শান্তি বৈঠকের অধীনে ইরান সাময়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' উন্মুক্ত রাখতে সম্মত হয়েছে, যার বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তবে এই যুদ্ধবিরতি কতদিন টিকবে, তা নিয়ে পেন্টাগন ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর সংশয় রয়েছে।
এই আকস্মিক ইউএস-ইরান সমঝোতা সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা করে তুলেছে ইসরাইলকে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ইরান নীতি এবং লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য হোয়াইট হাউজের চাপ, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিযাহুকে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঐতিহাসিক সম্পর্কে তৈরি হওয়া এই ফাটল মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইউরোপের মাটিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে পদার্পণ করে আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এযাবৎকালের বৃহত্তম ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া ডনবাস ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে ছোট ছোট ভূখণ্ড দখল করে নিজেদের চাপ বজায় রাখছে। এই রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থার মাঝেই ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলো ইউক্রেনকে সামরিকভাবে টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে, যা মস্কোকে তীব্র ক্ষুব্ধ করেছে।
এই বৈশ্বিক ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এখন উত্তাল। ওয়াশিংটনের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর 'হান্টার' বা আক্রমণাত্মক নীতি যেমন বিতর্ক তৈরি করেছে, তেমনি হোয়াইট হাউজের ভেতরেও তৈরি হয়েছে নতুন গুঞ্জন।
সম্প্রতি মেলানিয়া ট্রাম্পের আকস্মিক কিছু নীতিগত উদ্যোগ ও বক্তব্য, যা খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও অজানা ছিল, মার্কিন গণমাধ্যমে ট্রাম্প-মেলানিয়া দম্পতির মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাম্প্রতিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরাশক্তিগুলো নামমাত্র শান্তি আলোচনার আড়ালে আসলে নিজেদের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত।
জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা যেভাবে সংকুচিত হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোনো স্থিতিশীল শান্তির দিকে নয়, বরং আরও বড় কোনো সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

