:

এনবিসি’র সাক্ষাৎকারে তুমুল হট্টগোল: সাংবাদিককে ‘অসৎ ও নির্বোধ’ বলে মাঝপথে উঠে গেলেন ট্রাম্প

top-news

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-র জনপ্রিয় টকশো ‘মিট দ্য প্রেস’-এ সাক্ষাৎকার দিতে এসে চরম নাটকীয়তার জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মুখোমুখি বসা উপস্থাপক ও প্রখ্যাত সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ও পাল্টা চ্যালেঞ্জের মুখে শেষমেশ মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। সাক্ষাৎকার শুরুর মাত্র ৫০ মিনিটের মাথায় উপস্থাপককে ‘অসৎ ও নির্বোধ’ আখ্যা দিয়ে মাঝপথেই স্টুডিও ছেড়ে উঠে যান ট্রাম্প।

 গতকাল রোববার (৭ জুন) অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈরী সম্পর্ক।

এনবিসি-র মুখোমুখি হয়ে তিনি আবারও দাবি করেন, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চলমান গভর্নর পদের প্রাইমারি (প্রাথমিক বাছাই) নির্বাচন—দুটিই ছিল ‘কারচুপিতে’ ভরা।

ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের দাবির পরপরই উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকার শক্ত অবস্থান নেন এবং সরাসরি প্রমাণ দাবি করেন।

ট্রাম্প বলেন: “আমাকে যেসব কাজ করতে হয়, তা হলো—দেখা এবং শোনা (সেখান থেকেই আমি জানি)। পাল্টা জবাবে ক্রিস্টেন বলেন:“এটা তো কোনো প্রমাণ হতে পারে না।”

এই এক লাইনেই চটে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমকে ‘অসাধু’ বলে আক্রমণ করেন। একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে ক্রিস্টেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ওরা অসৎ, যেমন আপনিও।

ক্রিস্টেন নিজেকে সৎ দাবি করে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইলে ট্রাম্প আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আপনি হয় অসৎ, নয়তো নির্বোধ।” এরপরই তিনি বলেন, “দুঃখিত, এখানেই শেষ করি। যথেষ্ট হয়েছে।”

সাক্ষাৎকারটির শুরুর অংশটি অবশ্য ছিল বেশ তথ্যবহুল। প্রায় ৫০ মিনিটের এই কথোপকথনের বড় অংশ জুড়ে ছিল ইরানের চলমান সামরিক সংঘাত। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে এই সংঘাত কখনো ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ রূপ নেবে না দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা সেখানে মাত্র কয়েক মাসের জন্য ছিলাম, এখন হুমকি অনেকটাই কেটে গেছে।”

তবে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ‘অ্যান্টি–ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল নিয়ে আলোচনার সময়।

সরকারি তদন্ত বা হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে এই ১৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাবিত তহবিল গঠন করা হয়েছিল (যা পরে বাতিল হয়)।

ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান নেতার আশঙ্কা ছিল, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় অভিযুক্তরাও এই তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে।

দাঙ্গা এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে কথা বলার সূত্র ধরেই ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাইমারি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টানেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গ্রহণের চার দিন পরও কেন ফলাফল দেওয়া হচ্ছে না? সেখানে নিশ্চিতভাবেই কারচুপি হচ্ছে।

আর এই দাবির পক্ষে কোনো আইনি প্রমাণ দেখাতে না পেরেই ক্ষোভে সাক্ষাৎকার বর্জন করেন তিনি।

স্টুডিও ছেড়ে উঠে যাওয়ার সময়ও ক্রিস্টেন ওয়েলকার সাক্ষাৎকারটি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, “আপনাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি। একটি অসৎ সংবাদমাধ্যম নিয়ে কোনো দেশ মহান হতে পারে না।”

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এই সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছিল। এই নজিরবিহীন ঘটনা ও ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের এই ক্ষোভ মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *