রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা: ১৯ নভেম্বর রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 04 Nov, 2026
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আগামী ১৯ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার 'গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি বিষয়ক সনদের প্রয়োগ (গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার: ১১টি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ)' সংক্রান্ত মামলার রায় প্রদান করবেন।
৩ নভেম্বর প্রকাশিত আদালতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্য হেগের পিস প্যালেসে সকাল ১০টায় একটি উন্মুক্ত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারক ইওয়াসাওয়া ইউজি আদালতের রায় পড়ে শোনাবেন।
২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর গাম্বিয়া আদালতের রেজিস্ট্রিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি বিষয়ক সনদের ("জেনোসাইড কনভেনশন") কথিত লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য একটি আবেদন দায়ের করে।
ওই আবেদনে গাম্বিয়া অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি আদালতের কাছে এই মর্মে রায় ও ঘোষণার অনুরোধ জানায় যে, মিয়ানমার জেনোসাইড কনভেনশনের অধীনে তার বাধ্যবাধকতাগুলো লঙ্ঘন করেছে, চলমান যেকোনো আন্তর্জাতিক বেআইনি কর্মকাণ্ড তাদের অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর যেসব সদস্য গণহত্যার শিকার হয়েছেন তাদের স্বার্থে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে এবং কনভেনশন লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি না ঘটার বিষয়ে আশ্বাস ও নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আদালতের এখতিয়ারের ভিত্তি হিসেবে আবেদনকারী জেনোসাইড কনভেনশনের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article IX) উল্লেখ করে। আবেদনের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নির্দেশ করার জন্য একটি অনুরোধও যুক্ত ছিল।
২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালত মিয়ানমারকে উদ্দেশ্য করে নির্দিষ্ট কিছু অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়ে একটি আদেশ প্রদান করেন। মিয়ানমার এই মামলার বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রাথমিক আপত্তি তুললে ২০২২ সালের ২২ জুলাই আইসিজে তা খারিজ করে দেন এবং গাম্বিয়ার আবেদন বিচারযোগ্য বলে রায় দেন।
গাম্বিয়া কর্তৃক মেমোরিয়াল দাখিলের পর, মিয়ানমার আদালতের এখতিয়ার এবং আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে প্রাথমিক আপত্তি উত্থাপন করে। ২০২২ সালের ২২ জুলাইয়ের রায়ে আদালত সিদ্ধান্ত জানান যে, জেনোসাইড কনভেনশনের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে গাম্বিয়ার আবেদনটি গ্রহণ করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে এবং আবেদনটি গ্রহণযোগ্য।
পরবর্তীতে মিয়ানমার তাদের কাউন্টার-মেমোরিয়াল দাখিল করে; এর ধারাবাহিকতায় যথাক্রমে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার কর্তৃক একটি রিপ্লাই এবং একটি রিজয়েন্ডার দাখিল করা হয়।
আদালতের সংবিধির ৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে হস্তক্ষেপের ঘোষণা (Declarations of intervention) দাখিল করে কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস রাজ্য এবং যুক্তরাজ্য (যৌথভাবে), সেইসঙ্গে মালদ্বীপ, স্লোভেনিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বেলজিয়াম এবং আয়ারল্যান্ড।
আদালত ওই ঘোষণাগুলোকে গ্রহণযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

