:

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: :ঘাতক আটক

top-news

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) পিএইচডি গবেষণারত বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মৃত্যু এবং নাহিদা বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রবাসী কমিউনিটি।

লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার সাবেক রুমমেট ও মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে।

তদন্তে বেরিয়ে আসছে হিশামের দীর্ঘ অপরাধমূলক ইতিহাস, যা এই হত্যাকাণ্ডকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।


গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন। নিখোঁজের চারদিন পর শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে তার দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অংশগুলো লিমনের বলে নিশ্চিত করেছে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। লিমনের এই করুণ মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে।

লিমনের মরদেহ উদ্ধারের আগে টাম্পার উত্তরে হিশামের পৈতৃক বাড়িতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT)। পারিবারিক সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছালে হিশাম নিজেকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন।

কয়েক ঘণ্টার চরম উত্তেজনার পর পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয় এবং হিশামকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহ ইউএসএফ-এর প্রাক্তন ছাত্র হলেও তার জীবন ছিল অপরাধে ঠাসা।২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত ও চুরির মামলা হয়েছিল।  খোদ নিজের পরিবারের সদস্যরাই হিশামের সহিংস আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে আদালতে ‘প্রটেকশন অর্ডার’ বা নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। 

 লিমনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মরদেহ গুম করা, আলামত নষ্ট করা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

লিমনের মরদেহ পাওয়া গেলেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশলের শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির ভাগ্য নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। লিমনের নিখোঁজ হওয়ার দিনই বৃষ্টিকেও ক্যাম্পাস এলাকা থেকে শেষবার দেখা গিয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় বৃষ্টির মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন ক্যাম্পাস এলাকাতেই ছিল। এফবিআই (FBI) বর্তমানে বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে হিশামের কোনো সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।   তবে বৃষ্টির পরিবার সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট দিয়ে বলেছে, বৃষ্টি বেঁচে নেই।

ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট এই ঘটনায় কড়া নজরদারি রাখছে। দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এক বিবৃতিতে লিমনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে যাতে দোষী ব্যক্তি সর্বোচ্চ শাস্তি পায় এবং নিখোঁজ বৃষ্টির সন্ধান দ্রুত পাওয়া যায়।

এই জোড়া ট্র্যাজেডির পর ফ্লোরিডায় বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষারত শিক্ষার্থীদের এমন মর্মান্তিক পরিণতি প্রবাসী অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তার প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লিমনের ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে তাকে ঠিক কীভাবে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ড্রোনের সাহায্যে এবং তল্লাশি দলের মাধ্যমে নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *