:

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পকে মেদভেদেভের হুঁশিয়ারি: দ্রুত না নিলে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে

top-news

গ্রিনল্যান্ড কেনা বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোড়জোড়ের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তিনি কিছুটা কটাক্ষের সুরেই বলেছেন, ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে দ্রুত পদক্ষেপ না নেন, তবে এই দ্বীপের জনগণ গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ বলেন, "ট্রাম্পের উচিত তাড়াহুড়ো করা। অসমর্থিত সূত্রের তথ্য মতে, কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে আকস্মিক এক গণভোট হতে পারে, যেখানে গ্রিনল্যান্ডের ৫৫ হাজার বাসিন্দা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে রায় দিতে পারেন।"

যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় নতুন অঙ্গরাজ্যের প্রতীক হিসেবে তারকার (Star) প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "(রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলে) তখন আর কিছুই করার থাকবে না। মার্কিন পতাকায় নতুন কোনো ছোট তারকা আর যুক্ত হবে না।"

ট্রাম্পের অনড় অবস্থান:
'যেকোনো উপায়ে' চাই গ্রিনল্যান্ড এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র "যেকোনো উপায়ে" (one way or the other) ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নেবে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি এটি না নেয়, তবে রাশিয়া বা চীন এটি দখল করে নেবে।

ট্রাম্প বলেন, "আমরা যদি গ্রিনল্যান্ড না নিই, তবে রাশিয়া বা চীন নেবে। আর আমি সেটা হতে দেব না।" যদিও রাশিয়া বা চীন কেউই এখন পর্যন্ত এই বিশাল দ্বীপের ওপর কোনো মালিকানা দাবি করেনি।

ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উপহাস করে বলেন, "তাদের প্রতিরক্ষা বলতে আছে কেবল দুটি কুকুরের স্লেজ গাড়ি (dog sleds)।" এর বিপরীতে রাশিয়া ও চীনের কাছে সাবমেরিন ও ডেস্ট্রয়ারের মতো ভারী সমরাস্ত্র রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডেনমার্কের কড়া প্রতিক্রিয়া গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্ক ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি জোরপূর্বক গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তবে তা গত ৮০ বছরের ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা সম্পর্ক ধ্বংস করে দেবে।

উত্তরে ট্রাম্প বলেছেন, "এটি ন্যাটোর ওপর প্রভাব ফেললে ফেলুক। কিন্তু আমাদের যতটা তাদের প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি তাদের আমাদের প্রয়োজন।"

আর্কটিকে আধিপত্যের লড়াই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মোচিত হওয়ায় এবং খনিজ সম্পদের সম্ভাবনার কারণে আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলটি পরাশক্তিগুলোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ও মহাকাশ নজরদারি ঘাঁটিও রয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে আর্কটিক অঞ্চলে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *