:

ভেনিজুয়েলার তেলে নজর ট্রাম্পের, তবে এক্সন প্রধান বললেন—দেশটি ‘বিনিয়োগের অযোগ্য’

top-news

ভেনিজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডারের দিকে নজর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি চাইছেন ভেনিজুয়েলার তেল উত্তোলনে ১০০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ আসুক।

তবে তাঁর এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভেনিজুয়েলা বর্তমানে ‘বিনিয়োগের অযোগ্য’ (Uninvestable)।

বিবিসি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ভেনিজুয়েলার তেল খাত নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানান ট্রাম্প। সেখানেই উঠে আসে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতির কথা।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প। বিশ্বের বৃহত্তম তেলের রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও ভেনিজুয়েলা তাদের উৎপাদন বাড়াতে পারছে না।

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, মার্কিন কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগ করলে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এজন্য তিনি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোতে চাইছিলেন।

এক্সনমোবিলের সতর্কতা
তবে এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস (বা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তা) সতর্ক করে বলেছেন, ভেনিজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি ব্যবসার জন্য মোটেই অনুকূল নয়। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:

১. অবকাঠামোগত ধস: দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অব্যবস্থাপনায় ভেনিজুয়েলার তেল উত্তোলনের অবকাঠামো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি পুনরায় সচল করতে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।

২. তেলের প্রকৃতি: ভেনিজুয়েলার তেল অত্যন্ত ‘ভারী’ (Heavy Crude)। এই তেল পরিশোধন করা জটিল ও ব্যয়সাপেক্ষ।

৩. বিনিয়োগ ঝুঁকি: দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনি সুরক্ষার অভাব বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প চাইলেই রাতারাতি ভেনিজুয়েলার তেল বাজারে আনা সম্ভব নয়।

এক্সনমোবিলের মতো জায়ান্ট কোম্পানি যখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তখন অন্য কোম্পানিগুলোও সেখানে বড় লগ্নী করতে দুবার ভাববে। কানাডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বাণিজ্যিক মিত্ররাও এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, কারণ ভেনিজুয়েলার তেল বাজারে এলে তা তাদের বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

আপাতত ট্রাম্পের ১০০ বিলিয়ন ডলারের ‘ভেনিজুয়েলা স্বপ্ন’ বাস্তবতার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *