:

ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপ : মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: ‘হাই অ্যালার্টে’ তেল আবিব

top-news

ইরানে সরকারবিরোধী চলমান বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল তাদের সামরিক বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়’ (High Alert) রেখেছে।

এদিকে তেহরানও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে।

আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) স্কাই নিউজ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর মধ্যে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতা কথা বলেছেন।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ইসরায়েল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও তেহরানের পাল্টা হুমকি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েকদিন ধরেই ইরান সরকারকে বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করার জন্য সতর্ক করে আসছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেছেন, ইরানি জনগণ স্বাধীনতার জন্য লড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তায় ‘প্রস্তুত’ রয়েছে। পেন্টাগন ট্রাম্পের সামনে ইরানে হামলার সম্ভাব্য সামরিক অপশনও উপস্থাপন করেছে বলে জানা গেছে।

এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ আজ রবিবার সংসদে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি আমেরিকা কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে এই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েল আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।” এসময় ইরানের সংসদ সদস্যরা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দেন।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশটির ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত ১১৬ জনেরও বেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির সরকার ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন সরাসরি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি ইরানে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় এবং ইরান তার জবাবে ইসরায়েল বা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *