:

মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত : শহরে বিক্ষোভ

top-news

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যে ৩৭ বছর বয়সী এক মাকে হত্যার ঘটনাটিকে তাঁর প্রশাসন 'আত্মরক্ষা' হিসেবে বর্ণনা করলেও, মিনিয়াপোলিসের কর্মকর্তারা এই ব্যাখ্যার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে

মিনিয়াপোলিস শহরের কেন্দ্রস্থল (ডাউনটাউন) থেকে দক্ষিণে একটি আবাসিক এলাকায় নিজের গাড়ির ভেতর ওই নারীকে গুলি করা হয়। ২০২০ সালে যেখানে পুলিশ জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করেছিল, সেখান থেকে এটি প্রায় এক মাইল (১.৬ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। পথচারীদের তোলা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার মাঝখানে থামানো একটি এসইউভি-র দিকে একজন কর্মকর্তা এগিয়ে যাচ্ছেন, চালককে দরজা খোলার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং দরজার হ্যান্ডেল ধরে টানছেন।

হোন্ডা পাইলট মডেলের গাড়িটি সামনে এগোতে শুরু করলে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন আইসিই কর্মকর্তা তার অস্ত্র বের করেন এবং খুব কাছ থেকে অন্তত দুবার গাড়ির ভেতর গুলি চালান। গাড়িটি তার দিকে এগিয়ে আসার সাথে সাথে তিনি লাফ দিয়ে সরে যান।

ভিডিও দেখে এটি স্পষ্ট নয় যে গাড়িটি ওই কর্মকর্তার গায়ে লেগেছিল কি না। এরপর এসইউভিটি দ্রুতগতিতে গিয়ে রাস্তার পাশে পার্ক করা দুটি গাড়িতে ধাক্কা মারে এবং থামে। এসময় প্রত্যক্ষদর্শীদের আতঙ্কে চিৎকার করতে শোনা যায়।

ভুক্তভোগী ছিলেন একজন ‘স্ত্রী ও মা’

রিনি নিকোল ম্যাকলিন গুড মাথায় গুলির আঘাতে মারা যান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজেকে কলোরাডোর বাসিন্দা এবং একজন "কবি, লেখক, স্ত্রী ও মা" হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন বা মেসেজ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ম্যাকলিন গুড সম্প্রতি মিসৌরির কানসাস সিটিতে বাস করতেন, যেখানে তিনি এবং একই ঠিকানায় থাকা আরেক নারী গত বছর 'বি. গুড হ্যান্ডিওয়ার্ক' নামে একটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাকলিন গুডকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারী গাড়ির পাশে বসে কাঁদছেন। তিনি জানান, তারা সম্প্রতি মিনেসোটায় এসেছিলেন এবং তাদের ৬ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

তাকে হত্যার ঘটনাটি দ্রুত শত শত বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীকে রাস্তায় নামিয়ে আনে। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যে আগ্রাসী অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু করেছে, তার ফলে এটি অন্তত পঞ্চম মৃত্যুর ঘটনা।

নোয়েম বলছেন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ মেনেই কাজ করেছেন

ওই আইসিই কর্মকর্তার নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম তাকে কেবল একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে জুনে আইসিই-বিরোধী এক বিক্ষোভকারীর গাড়ির নিচে হেঁচড়ে যাওয়ায় তিনি আহত হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, বুধবারের গোলাগুলির সময় ওই কর্মকর্তা গাড়ির ধাক্কা খান এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নোয়েম বলেন, "আমাদের কর্মকর্তা তার প্রশিক্ষণ মেনে চলেছেন, ওই পরিস্থিতিতে যা শেখানো হয়েছে ঠিক তাই করেছেন এবং নিজেকে ও তার সহকর্মী আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন।"

নোয়েম জানান, কর্মকর্তারা যখন বরফ থেকে একটি গাড়ি ঠেলে তোলার চেষ্টা করছিলেন, তখন একদল বিক্ষোভকারী তাদের ওপর চড়াও হয়। কর্মকর্তারা তখন একটি অভিযান শেষ করে সদর দপ্তরে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।

নোয়েম দাবি করেন, ওই নারী তার গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাদের পথ আটকে রেখেছিলেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্দেশ মানতে অস্বীকার করছিলেন।

নোয়েম আরও বলেন, "এরপর তিনি তার গাড়িটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন এবং একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এটি এজেন্টদের হত্যা বা শারীরিক ক্ষতি করার চেষ্টা এবং অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসের (domestic terrorism) শামিল বলে মনে হচ্ছে।"

 স্থানীয় নেতারা এই বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছেন


পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও'হারা সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময় এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি যে চালক কারো ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন।

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে নোয়েমের বর্ণনাকে "বাজে কথা" (garbage) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, তিনি ঘটনার ভিডিও দেখেছেন এবং এটি আত্মরক্ষা ছিল না, বরং ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব ছিল। টুইন সিটি হিসেবে পরিচিত মিনিয়াপোলিস এবং সেন্ট পলে ২,০০০ এরও বেশি ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েনের সমালোচনা করেন ফ্রে।

ফ্রে বলেন, "তারা পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করছে। তারা আমাদের রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং এই ক্ষেত্রে, আক্ষরিক অর্থেই মানুষকে হত্যা করছে।" (এপি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *