:

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার: পাসপোর্ট মেলেনি কারও কাছেই, ডিজিটাল জালিয়াতির তথ্য

top-news

চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সন্দেহে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কারও কাছেই কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের একটি আটতলা ভবনে এই বিশেষ অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। ওই ভবনটি একজন দুবাই প্রবাসীর মালিকানাধীন, যা প্রায় দেড় মাস আগে ভাড়া নিয়ে ‘ডিজিটাল ল্যাব’ বানিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিএমপির দামপাড়া কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন নারী রয়েছেন। তারা পাঁচটি ভিন্ন দেশের নাগরিক
এর মধ‌্যে রয়েছে,লাওস:৩৪ জন,পাকিস্তান: ২১ জন,চীন: ৫ জন,ভিয়েতনাম: ১ জন,নেপাল:১ জন
অভিযান চলাকালে ওই ভবন থেকে ডিজিটাল প্রতারণায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের তালিকায় রয়েছে—

* ১৩৪টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন
* ৫৭টি ল্যাপটপ
* ১টি অ্যাপল ট্যাব, ১টি সিপিইউ ও ১টি স্যামসাং মনিটর
* ১টি প্রিন্টার, ৫টি পেনড্রাইভ ও ৪টি সিমকার্ড
* ৩টি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও ১টি কম্বোডিয়ান অ্যাপয়েন্টমেন্ট কার্ড

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, চীন, লাওস ও কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান চলায় এই প্রতারকরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অবৈধ ই-ট্রানজেকশন পরিচালনা করে আসছিল।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।

পুলিশের ধারণা, তাদের সকল পাসপোর্ট অন্য এক সহযোগীর কাছে জমা রাখা হয়েছে, যিনি এই বাসা ভাড়া নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই মূলহোতাকে আটক করা গেলে তারা কীভাবে এবং কবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া তাদের এই কর্মকাণ্ডে কোটি টাকার লেনদেন বা ক্যাসিনো-সংক্রান্ত কার্যক্রম ছিল কি না এবং ঢাকা ও কক্সবাজারে পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশি চক্রের সঙ্গে এদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জব্দকৃত ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৬২ জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং জড়িত দেশি-বিদেশি পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *