অপ্রতিম হত্যাকান্ড: পুলিশের দাবি রহস্য উন্মোচিত-ঘাতক গ্রেফতার
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 20 Sep, 2026
বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোনটি নিয়ে শুক্রবার বিকেলে হাসিমুখে বাসা থেকে বেরিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম। কিন্তু সেই শখের আইফোনই যে তার কাল হবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি কেউ। কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ এই কিশোরের রক্তাক্ত নিথর দেহ শনিবার দুপুরে উদ্ধার করা হয় লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার গহিন জঙ্গল থেকে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
একটি মুঠোফোনের লোভে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবরে গোটা কুমিল্লায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে উত্তাল আন্দোলন গড়ে তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
তিনি জানান, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পূর্বপরিকল্পনা থেকেই শুক্রবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে অপ্রতিমকে নির্জন জঙ্গলে ডেকে নিয়ে যায় ঘাতকেরা। সেখানে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) ও তার দুই কিশোর সহযোগী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা সাইফুলকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপর দুই কিশোরকেও গ্রেপ্তার করা হয় এবং সাইফুলের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত আইফোনটি। তাদের সঙ্গে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার সকালে লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী নামের এক শ্রমিক প্রথম অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন অপ্রতিমের মা-বাবা। এদিকে, এই নির্মম হত্যার প্রতিবাদে রোববার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ সময় অবরোধ করে রাখেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করা।
পাশাপাশি কুমিল্লায় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে পুলিশ সুপার এবং সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ওসির প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠনের দাবি জানান তারা।
একটি আইফোনের জন্য এমন মর্মান্তিক পরিণতি যেন আর কোনো মায়ের কোল খালি না করে, কান্নায় ভেঙে পড়ে সেই আকুতিই জানাচ্ছেন স্বজন ও সাধারণ মানুষেরা।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

