:

মহেশখালীর আগুনে স্তব্ধ চট্টগ্রাম: গ্যাস-সংকটে থমকে গেছে রান্নাঘর থেকে শিল্পকারখানা

top-news

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র গ্যাস-সংকট।

চাহিদার বিপরীতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ কম পাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরনগরীর গৃহস্থালি জীবন ও অর্থনৈতিক চাকা।

আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে ভারী শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র—সর্বত্রই এখন জ্বালানি খরা। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও পতেঙ্গার মতো এলাকাগুলোতে সকাল ১০টার পরই নিভে যাচ্ছে গ্যাসের চুলা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর বিকেলে গ্যাস ফিরলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চাপ। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে পড়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির (কেজিডিসিএল) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই সংকটের আসল চিত্র। বর্তমানে চট্টগ্রামে দৈনিক প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ২৩ কোটি ঘনফুট, যা মোট চাহিদার মাত্র ৬৬ শতাংশ। প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি ঘনফুট ঘাটতি সামাল দিতে আবাসিক, শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে চাপ কমাতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বাণিজ্যিক উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

বারবার একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হলেও বিতরণ সংস্থার পক্ষ থেকে আগাম কোনো সতর্কবার্তা বা দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় গ্রাহকদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

গত ২১ জুলাই মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালনাধীন টার্মিনালটিতে আগুন লাগার পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দৈনিক ১০০-১০৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে আসে।

বিদেশি ও দেশীয় প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় বর্তমানে টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি দ্রুত চালুর তৎপরতা চলছে, যা সফল হলে অতিরিক্ত ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে।

তবে পুরো টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে এই নির্ধারিত সময়ের আগে বন্দরনগরীর গ্যাস-সংকট পুরোপুরি দূর হওয়ার কোনো ইঙ্গিত মিলছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *