:

ইস্তফা দিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান স্পিকার হাফিজ

top-news

বুধবার বিকেল থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া তীব্র জল্পনা-কল্পনাকে সত্যি করে পরিশেষে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের হাতে সামরিক সচিবের মাধ্যমে নিজের পদত্যাগপত্র দাখিল করেন তিনি।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দাখিলকৃত এ পদত্যাগপত্রটি গ্রহণের কথা বিকেল সাড়ে ৫টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন স্পিকার।

একই সাথে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসরণে তিনি অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন।

এতে করে বিদায়ী রাষ্ট্রপ্রধানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ধোঁয়াশা দূর হলো এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দ্বার উন্মোচিত হলো।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে  উল্লেখ করেন , তিনি দীর্ঘ দিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন।ইতিপূর্বে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি এবং স্টেন্ট বসানো হলেও সম্প্রতি নতুন করে 'অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি' রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে তিনি মাঝেমধ্যেই ক্ষণিক সচেতনতা হারিয়ে ফেলেন।

এই শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের গুরুদায়িত্ব পালন অসম্ভব হয়ে পড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি স্বেচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি—স্বাস্থ্যগত কারণের পাশাপাশি ক্ষমতার পটপরিবর্তন, নতুন সরকারের সাথে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের নানামুখী টানাপোড়েনের অপমানবোধও তার এই বিদায়কে ত্বরান্বিত করেছে।

মো. সাহাবুদ্দিনের এই পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলেও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সব ধরণের উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রপতি নিজেই নিজের রোগের নাম ও শারীরিক অক্ষমতা লিখিতভাবে স্বীকার করায় মেডিকেল সার্টিফিকেটের বাড়তি আর কোনো প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন , পদটিকে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে উঠে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই মূল্যায়ণ করা উচিত; গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটের মুহূর্তে দেশকে সাংবিধানিক ট্র্যাকে রাখতে সাবেক রাষ্ট্রপতি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছিলেন।

'রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬' অনুযায়ী, পদে ইস্তফা দিলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আমৃত্যু মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ (মাসিক ৯০ হাজার টাকা) পেনশন অথবা আনুতোষিক, মন্ত্রীর সমকক্ষ চিকিৎসা সুবিধা, ব্যক্তিগত সহকারী, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সার্কিট হাউসে আবাসনসহ পূর্ণ সরকারি প্রটোকল সুবিধা বহাল পাবেন।

গুজবের তোপ আর শারীরিক ক্লান্তি পেরিয়ে অবশেষে বঙ্গভবন থেকে সাহাবুদ্দিনের এই বিদায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এক নতুন সাংবিধানিক অধ্যায়ে প্রবেশ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *