কার্যকারিতা হারালো গণভোট ও পুলিশ কমিশনসহ ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 11 Apr, 2026
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের অনুমোদন না পাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গণভোট, গুম প্রতিরোধ এবং পুলিশ কমিশন গঠনের অধ্যাদেশসহ মোট ১৩টি অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) ছিল এসব অধ্যাদেশ পাসের শেষ সময়সীমা। সংসদীয় বিধির মারপ্যাঁচে গুরুত্বপূর্ণ এই আইনগুলো কার্যকারিতা হারানোয় জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক।
কেন বাতিল হলো অধ্যাদেশগুলো?
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি যেসব অধ্যাদেশ জারি করেন, তা সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে পাস করতে হয়। অন্যথায় সেগুলো রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে হেফাজত করতে হয়।
১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়।
১০ এপ্রিল (শুক্রবার) ছিল অনুমোদনের শেষ দিন।
ফলাফল এই ১৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কোনো বিল সংসদে না আনায় সেগুলো এখন অকার্যকর।
গণভোট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী দেশে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে 'হ্যাঁ' জয়ী হয়। কিন্তু এখন 'গণভোট অধ্যাদেশ'টিই বাতিল হয়ে যাওয়ায় সেই ভোটের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিএনপির অবস্থান: দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, সংসদহীন অবস্থায় সংবিধান সংশোধনের আদেশ জারি করার কোনো আইনি বৈধতা নেই। তিনি একে "জাতীয় প্রতারণা" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সংসদীয় মেরুকরণ: বিএনপি সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলেও জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১-দলীয় জোট এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে।
যে অধ্যাদেশগুলো এখন অকার্যকর
১৩টি প্রধান অধ্যাদেশ ছাড়াও বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আরও ৭টি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
গণভোট অধ্যাদেশ (সংবিধান সংশোধনের ভিত্তি)।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ (২টি)।
পুলিশ কমিশন গঠন অধ্যাদেশ (সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ থাকলেও পাস হয়নি)।
দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
তথ্য অধিকার ও কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
শেষ দিনের ম্যারাথন অধিবেশন: ২৪টি বিল পাস
অধ্যাদেশ অনুমোদনের শেষ দিনে শুক্রবার সকাল-বিকাল দুই বেলা সংসদের বৈঠক বসে। রেকর্ড সংখ্যক ২৪টি বিল পাস হয়েছে এদিন। যার মধ্যে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান' কেন্দ্রিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন রয়েছে: শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, সাইবার সুরক্ষা বিল ও নারী-শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল,
৫টি বিভাগীয় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল (নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুর),ব্যাংক রেজোল্যুশন ও গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল।
১১৩টি অধ্যাদেশ সংসদ অনুমোদন দিলেও গুম প্রতিরোধ বা পুলিশ কমিশনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের অধ্যাদেশগুলো কেন পাস হলো না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে যায়, সেটিই দেখার বিষয়।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

