ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা: প্রতিমনে বেড়েছে ২৫০টাকা
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 14 Mar, 2026
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট ও যুদ্ধকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে এবার ভোজ্য তেলের বাজারেও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের প্রধান পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্র খাতুনগঞ্জে ভোজ্য তেলের দাম প্রতিমনে বেড়েছে আড়াইশ’ টাকা।
চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি ও মজুদ থাকার পর ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি জন্য মিল মালিক এবং ডিও (ডেলিভারী অর্ডার) ব্যবসায়ীদের দুষছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ বাড়তি মুনাফার আশায় মিল মালিকরা হঠাৎ করে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, রমজান মাসে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে প্রায় ৩ লাখ টন চট্টগ্রাম বন্দর ও কাষ্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোজার আগে এ বছর সয়াবিন আমদানির এলসি খোলা ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৫ টনের। রোজার আগে ক্রড ও রিফাইন সয়াবিন এবং পামওয়েল মিলে দেশে ভোজ্য তেল আমদানী হয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার মে.টন। এছাড়া সয়াবিন এসেছে আরো এক লাখ ২১ হাজার টন।বিপুল পরিমান মজুদ থাকার পরও হঠাৎ করে অস্থিরতা বেড়েছে ভোজ্য তেলের বাজারে। চট্টগ্রামের প্রধান পাইকারী ব্যবসা কেন্দ্র খাতুনগঞ্জে প্রতি মনে বেড়েছে ২৫০টাকা। সাধারণ দোকানীদের অভিযোগ, রমজানের আগে ভোজ্য তেল সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বাজার থেকে আগাম টাকা তুলে নিলেও এখন তারা তেল সরবরাহ করছে না।ডিলাররা এখন নানা অজুহাত দিচ্ছে।
’মেসার্স হাজী আব্বাস আলী সওদাগর’ এর মালিক মুহাম্মদ আফজাল আলী জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভোজ্য তেল সরবরাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আগাম টাকা প্রদান করেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতির অজুহাত তুলে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বিপননকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এতে বাজারে যেমন কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে তেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, দেশে তেল উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাজারে তেল সরবরাহ সীমিত
করেছে।এতে বাজারে সরবরাহ চেইনে কিছুটা চাপ তৈরি হওয়ায় কৃত্রিম সংকট তেরি হয়েছে এবং বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
দেশে পর্যাপ্ত ভোজ্য তেলের মজুদ থাকার পরও কেন বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে এ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
চাক্তাই -খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি সোলায়মান বাদশারও একই অভিযোগ। তিনিও মনে করেন ভোক্তদের জিম্মি করে অতি মুনাফার আশায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি চেষ্টা চলছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মিল মালিকদের সাথে বসে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়ার পাশপাশি তাদের জবাব দিহিতার আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।
একই সাথে ডিও ব্যবসায় কড়াকড়ি আরোপ এবং মিল থেকে দ্রুত তেল খাসাসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান।
মেসার্স সবুজ কর্মাশিয়াল এর মালিক মোহাম্মদ শাহদে উল আলম জানান, দেশে পামওয়েল আমদানি করা হয় মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে। তবে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল থেকে সয়াবিন আমদানি করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে গুজব ছড়িয়ে বাজারে ভোজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি চেষ্টা করলেও চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাষ্টমস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভোজ্যতেল আমদানির প্রধান উৎস আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। যাদের জাহাজ আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।
অন্যদিকে পাম অয়েল আসে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে। যার রুট মালাক্কা প্রণালী। এই দুই রুটের কোনোটির সাথেই হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক কোনো সম্পর্ক নেই।
সূর্যমুখী তেল ইউক্রেন এবং রাশিয়া থেকে আমদানি করা হলেও রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া সরিষার তেল স্থানীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে,পর্যাপ্ত উৎপাদিত না হওয়ায় ভারত, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকেও আমদানি করা হয়।
বাংলাদেশে ভোজ্যতেল আমদানির ক্ষেত্রে মূলত সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, টি কে গ্রুপ এবং এস আলম গ্রুপ আমদানি করে। এরা বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে নিজস্ব রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করে ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অজুহাতে ভোজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহণ, পাশাপাশি মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা দাবি করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিতও দেন তারা।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

