অস্ট্রেলিয়ার স্টডেন্ট ভিসা কড়াকড়ি: সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশসহ ৪ দেশ
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 12 Jan, 2026
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ। 'অসততা' ও 'নথি জালিয়াতি'র অভিযোগে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশকে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় (এভিডেন্স লেভেল-৩)অন্তর্ভুক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া।
গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারি ও দীর্ঘসূত্রিতার মুখে পড়বেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।
কেন এই পরিবর্তন?
অস্ট্রেলিয়ার সিমপ্লিফায়েড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক (SSVF) অনুযায়ী, বেশ কিছু সূচকের ভিত্তিতে কোনো দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়:
* ভিসা আবেদনে ভুয়া বা জাল নথিপত্র প্রদান।
* ভিসা বাতিলের হার বেড়ে যাওয়া।
* কোর্স শেষ না করে অবৈধভাবে বসবাস করা।
* শিক্ষার্থী ভিসায় গিয়ে পরবর্তীতে শরণার্থী হওয়ার আবেদন করা।
অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবী ও মানসম্মত শিক্ষার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে এবং জালিয়াতি চক্রকে প্রতিহত করা যাবে।
এভিডেন্স লেভেল-৩ (EL-3) এর প্রভাব
এভিডেন্স লেভেল ২ থেকে ৩-এ নেমে যাওয়ার অর্থ হলো, এখন থেকে আবেদনকারীদের আগের চেয়ে অনেক বেশি নথিপত্র জমা দিতে হবে। এর প্রভাবে যা হতে পারে: ব্যাংকের প্রতিটি তথ্য এবং অর্থের উৎস অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফোন করে বা সরাসরি ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদ যাচাই করা হবে। অধিক যাচাই-বাছাইয়ের কারণে ভিসা পেতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগবে। ছোটখাটো অসংগতি থাকলেও ভিসা বাতিল হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকবে। |
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন দপ্তরের সাবেক উপসচিব **ড. আবুল রিজভি** এই পরিবর্তনকে 'অত্যন্ত অস্বাভাবিক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে: সম্প্রতি ভারতে এক লাখেরও বেশি জাল সনদ জব্দ হওয়ার ঘটনাটি অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে তুলেছে। ভিসা প্রসেসিং ধীরগতির হওয়ার ফলে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আসা আবেদনকারীর সংখ্যা কমতে পারে। এই দেশগুলোর ঘাটতি মেটাতে অস্ট্রেলিয়া এখন ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়ার মতো (লেভেল-১) দেশের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার (IEAA) প্রধান নির্বাহী ফিল হানিউড জানান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কড়াকড়ির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিকল্প হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নিচ্ছেন। এর ফলে জাল নথি জমা দেওয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এখন তারা দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তে অন্যান্য অঞ্চলের 'মানসম্মত' শিক্ষার্থীদের দিকে বেশি ঝুঁকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

