কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 12 Jan, 2026
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় নাফ নদী-সংলগ্ন একটি চিংড়িঘেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আহত হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের ফজল করিমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হানিফ সীমান্তের কাছে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন চিংড়ি খামারে চাকরি করতেন। সোমবার সকালে তিনি খামারে রাখা নৌকা পর্যবেক্ষণ করতে যাচ্ছিলেন। এ সময় মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই তার বাঁ পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ও হানিফের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সীমান্তের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) সীমান্তে তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ও হামলা ঠেকাতে নাফ নদীর মধ্যবর্তী জেগে ওঠা দ্বীপ এবং জিরো লাইন (নো ম্যানস ল্যান্ড) এলাকায় তারা নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও একাধিক বাংলাদেশি জেলে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন।
হোয়াইক্যং এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন ধরেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তেও। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওপার থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছিল। বিস্ফোরিত মর্টার শেলের অংশ, গুলি ও ড্রোনের ভগ্নাংশ হোয়াইক্যংয়ের বসতবাড়ি ও চিংড়িঘেরে এসে পড়েছে। আতঙ্কে স্থানীয়রা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এবং নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) খোকন কান্তি রুদ্র জানান, "নাফ নদী-সংলগ্ন খামারে কাজের সময় মাইন বিস্ফোরণে ওই যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। ওপারে গোলাগুলি চলায় সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যেন কেউ না যান, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক করছি।"
হোয়াইক্যং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, "গত চার দিন ধরে ওপারে মংডু টাউনশিপে তীব্র সংঘাত চলছে। যদিও রোববার সকালের পর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ কিছুটা কমেছে, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। যেকোনো সময় ফের সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত।"
বিজিবির কঠোর নজরদারি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (**বিজিবি**) কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ওপারের পরিস্থিতির ওপর তারা কড়া নজর রাখছেন। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। আহত মো. হানিফ (২৮), চিংড়িঘের কর্মচারী।ঘটনাস্থল: হোয়াইক্যং সীমান্ত, টেকনাফ। কারণ: মিয়ানমারের আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন। বর্তমান পরিস্থিতি:সীমান্তে থমথমে অবস্থা, বিজিবির টহল জোরদার।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

