বিশ্ব বাজারে চালের দাম কমেছে, তবু বাড়ছে দাম-সিপিডি
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 10 Jan, 2026
বিশ্ব বাজারে চালের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমে এলেও দেশের বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। দেশে চাল উৎপাদনে ঘাটতি না থাকলেও দাম বাড়ার পেছনে উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময় সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণার তথ্য উপস্থাপনকালে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩১ মিলিয়ন টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও চালের দাম বাড়ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
তার মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে শক্তিশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ভোক্তারা সুফল পাচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, কিন্তু দেশের বাজারে সেই প্রভাব নেই। একই চিত্র চিনি ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে দাম না কমা প্রতিযোগিতা ও নজরদারির অভাবকে স্পষ্ট করে।
সিপিডির গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৩ সাল থেকে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তা কিছুটা কমলেও সেই গতি খুব ধীর। ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে রয়ে গেছে। ফলে চালের মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের দামের সঙ্গে অন্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির যোগসূত্র আরো দৃঢ় হচ্ছে।
সিপিডির মতে, দেশের বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না করা গেলে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল স্থানীয় ভোক্তারা পাবেন না। এজন্য চালসহ নিত্যপণ্যের বাজারে নজরদারি জোরদার করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি নির্বাচন–পরবর্তী নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উল্লেখ করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিনিয়োগ না বাড়লে বৈষম্য ও অস্থিরতা বাড়বে। সমাজে যদি ন্যায়সঙ্গত সুযোগ না থাকে, তাহলে একদিকে বৈষম্য তৈরি হয়, অন্যদিকে অস্থিরতা দেখা দেয়।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে আন্দোলন হয়, তার পেছনেও এ বাস্তবতা কাজ করেছে। বাজারে চাকরি নেই, সরকারি চাকরিই একমাত্র ভরসা, সেখানেও কোটা–সংকট। এর সঙ্গে যুক্ত হয় উচ্চ মূল্যস্ফীতি। সব মিলিয়ে মানুষের জীবনে প্রবল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল। তিনি মনে করেন, এ বাস্তবতায় অর্থনীতিতে যে বিনিয়োগের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে আমরা যদি বেরোতে না পারি, তাহলে এ সমস্যাগুলো জিইয়ে থাকবে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশী–বিদেশী ঋণের বোঝা বাড়ছে। জাতীয় বাজেটের প্রধান খাত এখন ঋণের সুদ পরিশোধ। এ চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়তে পারে, এমন ঝুঁকি আছে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

