যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন: বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশ
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 07 Jan, 2026
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড়সড় রদবদল এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরও জোরালো করতে ‘ভিসা বন্ড’ বা
জামানত ব্যবস্থার পরিধি প্রায় তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র
দপ্তরের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ নতুন করে ২৫টি দেশকে এই
তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর ফলে মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের
এখন যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ (ভ্রমণ ও ব্যবসা) ভিসার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে
১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হতে পারে।
একনজরে নতুন ভিসা বন্ড নীতি
কার্যকর হওয়ার তারিখ: নতুন তালিকাভুক্ত দেশগুলোর (কিছু ছাড়া) জন্য এই নিয়ম ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
বন্ডের পরিমাণ: ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে, যা ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার হতে পারে।
বাংলাদেশি মুদ্রায়: প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসেবে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
ভিসার ধরন: এই নিয়ম মূলত বি১/বি২ (ভ্রমণ ও ব্যবসা) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
টাকা দিলেই কি ভিসা নিশ্চিত?
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বন্ডের টাকা জমা দিলেই ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে এটি অফেরতযোগ্য নয়।
টাকা ফেরত পাওয়ার শর্ত:
যদি
আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় অথবা ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণকারী সব শর্ত মেনে
নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরে যান, তবে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।মার্কিন
কর্মকর্তাদের মতে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যাতে কেউ অবৈধভাবে
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান না করেন, তা নিশ্চিত করতেই এই জামানত ব্যবস্থা।
আবেদনের নতুন নিয়ম ও সতর্কতা
নতুন
নিয়মে ভিসা পাওয়া অনেক নাগরিকের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হতে
পারে। আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে:
১. সরাসরি সাক্ষাৎকার: আবেদনকারীকে অবশ্যই সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে।
২. তথ্য প্রদান: বিগত কয়েক বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাস এবং নিজের ও পরিবারের ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক।
৩. পেমেন্ট পদ্ধতি: আবেদনকারীকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘আই-৩৫২’ ফরম জমা দিতে হবে এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তাবলিতে সম্মত হতে হবে।
ভ্রমণ ও প্রবেশপথে কড়াকড়ি
ভিসা
প্রাপ্তদের যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু বিমানবন্দর দিয়েই প্রবেশ ও
বহির্গমন করতে হবে। অন্যথায় তাদের প্রবেশাধিকার বাতিল হতে পারে।
নির্ধারিত বিমানবন্দরগুলো হলো:
বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS)
জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK)
ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)
তালিকায় থাকা দেশসমূহ
নতুন
করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকার, তবে এশিয়া ও লাতিন
আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশও রয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া দেশ: বাংলাদেশ, নেপাল,
ভুটান, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডা, বেনিন,
বুরুন্ডি, কেপভার্দে, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট,
কিরগিজস্তান, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, টোগো, টোঙ্গা, টুভালু,
উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে।
এছাড়াও পূর্বেই
তালিকায় ছিল—বতসোয়ানা, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, গিনি,
গিনি-বিসাউ, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, সাও তোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে,
তানজানিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও জাম্বিয়া।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

