কাউন্সিলরের নির্দেশে হাদিকে হত্যা: শ্যুটার ফয়সালসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 06 Jan, 2026
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে উঠে এসেছে, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও পরিকল্পনাতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (আজ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে ডিবি।
বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আসামি:মোট ১৭ জন (গ্রেপ্তার ১২, পলাতক ৫)
মাস্টারমাইন্ড: সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)
শ্যুটার: ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম
মোটিভ: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হওয়া
নতুন ধারার রাজনীতি’ই কাল হলো হাদির
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, শরিফ ওসমান বিন হাদি বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী ও নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিগত দিনের কার্যকলাপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে হাদির জোরালো ও সমালোচনামূলক বক্তব্য দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হাদির এই জনপ্রিয়তাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েই মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
যেভাবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা।
মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাস্টারমাইন্ড’ ও শ্যুটার
মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও শ্যুটাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পী, শ্যুটার হিসেবে চিহ্নিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম এবং সহযোগী আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছেন।
এছাড়াও শ্যুটার ফয়সালের ভগ্নিপতি এবং ফিলিপ নামের আরেক আসামি পলাতক রয়েছেন।
তবে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আশ্বস্ত করেন, ভবিষ্যতে পলাতকদের বিষয়ে বা নতুন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ রয়েছে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

