:

১৫ জানুয়ারি থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর নির্দেশ

top-news

 আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও উৎসবমুখর করতে আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথ বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই বিপ্লবের সময় লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার এবং নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার অব. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

‘আগের মতো নির্বাচন হবে না’ নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এবারের নির্বাচন অতীতের মতো হবে না। তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন ও উৎসবমুখর। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অতীতের নির্বাচনগুলোতে অস্ত্রের যে ব্যবহার দেখা গেছে, এবার তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”

লুণ্ঠিত অস্ত্র ও যৌথ অভিযান অবৈধ অস্ত্র প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় লুণ্ঠিত হওয়া অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। জনগণের আস্থা ফেরাতে এসব অস্ত্র অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে। বাইরে থেকেও যেন কেউ অস্ত্র আনতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে ১৫ জানুয়ারি থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সিলগালা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার ও সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকা সম্পূর্ণ ‘সিল’ করে দেওয়া হবে। রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে জনসাধারনের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

রাউজান হত্যাকাণ্ড ও গুজব প্রসঙ্গ সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক যুবদল কর্মী নিহতের ঘটনায় তিনি বলেন, “এটি শুধু রাজনৈতিক কারণে ঘটেনি, এর পেছনে অন্য কোনো কারণও ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।”

এছাড়া তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের গুজবের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান এবং অপপ্রচার রোধে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান আচরণে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি।

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:
যৌথ অভিযান: ১৫ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হবে।
অস্ত্র উদ্ধার: জুলাই বিপ্লবে লুট হওয়া ১৫ শতাংশ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, যা দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রোহিঙ্গা ইস্যু: নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকা সিলগালা করা হবে। রোহিঙ্গাদের চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ: অতীতের মতো বিতর্কিত নির্বাচন হবে না; পরিবেশ হবে উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ।
সতর্কবার্তা:
রাউজানের ঘটনার তদন্ত চলছে। গুজব ছড়ানো বন্ধে গণমাধ্যমের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *