বেগম খালেদা জিয়া আর নেই
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 30 Dec, 2025
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর
নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর)
সকাল ৬টায় তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত জটিল ছিল। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, তিনি সংকটময় সময় পার করছিলেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতিতে যুক্ত হন খালেদা
জিয়া। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আড়াই বছরের মধ্যে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন
নির্বাচিত হন। সেই দায়িত্বের ৪১ বছর পূর্ণ হয়েছে গত মে মাসে। এ দীর্ঘ সময়ে
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে।
বিএনপির
ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপির
প্রাথমিক সদস্যপদ নেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস
চেয়ারম্যান হন। এরপর ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত হন। একই বছরের ১০ মে তিনি বিনা
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এ সময় তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন। এই আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তাঁকে একাধিকবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়।
সেই থেকে ৪১ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে যথাক্রমে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে কখনো কোনো নির্বাচনে হারেননি।
১৯৯১
সালে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের
দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হন। নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখার
জন্য ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের
তালিকায় ২৯ নম্বরে ছিলেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে
সবচেয়ে কঠিন সময় আসে বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে। ওই সরকারের আমলে দুটি
মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাঁকে। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দী রাখার পর
২০২০ সালে মার্চে করোনা মহামারির সময় তৎকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা
জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাঁকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। এরপর ছয় মাস পরপর
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাজা স্থগিত করে সরকার তাঁর মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো
হয়।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের (২০২৪ সালর ৫ আগস্ট) পরদিন নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান ও চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

