ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে চান রাষ্ট্রপতি, অভিযোগ ‘অপমান’ ও ‘কণ্ঠরোধের’
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 12 Dec, 2025
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ‘অপমানিত’ বোধ করায় আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পরেই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইচ্ছার কথা জানান।
রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে কোণঠাসা করে রেখেছে এবং তার কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি পদ ছাড়তে চাই। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত আমি আমার সাংবিধানিক পদে বহাল থাকব।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা পদত্যাগ করা হলেও পরবর্তী সরকারই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, “তারা (পরবর্তী সরকার) যদি নিজস্ব রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিতে চায়, তবে আমি সরে দাঁড়াব।”
ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত প্রায় সাত মাস ধরে তার সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ করেননি। এছাড়া রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের কার্যক্রম কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং গত সেপ্টেম্বর মাসে বিদেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “একরাতের মধ্যে সমস্ত দূতাবাস ও হাইকমিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যায় যে, হয়তো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছি।” এ বিষয়ে তিনি ড. ইউনূসকে চিঠি দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে।”
নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী পরবর্তী সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনজনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন।
সেনাপ্রধান ও হাসিনাস প্রসঙ্গ
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সেনাপ্রধান ক্ষমতা দখলের কোনো ইচ্ছা পোষণ করেন না বলে রাষ্ট্রপতি নিশ্চিত করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করছেন এবং কোনো দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে মো. সাহাবুদ্দিনই ছিলেন দেশের একমাত্র অবশিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

