বে টার্মিনাল না হওয়া চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিদিনগচ্ছা এক মিলিয়ন ডলার!
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 03 Nov, 2025
চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিদিন এক মিলিয়ন ডলার করে বছরে ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার গচ্ছা দিচ্ছে। বে টার্মিনাল নির্মিত হলে বিপুল পরিমান অর্থ বন্দর কার্যক্রমসহ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্ষ্টিরা। তাদের আশা ২০৩০ সালে নতুন এই টার্মিনালের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামন।
সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বন্দরের শহীদ মো. ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে বে
টার্মিনাল সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামের হালিশহর আনন্দবাজার সমুদ্র উপকুলে গড়ে তোলা দেশের সর্ববৃহৎ বন্দর বে-টার্মিনালের ব্রেকওয়াটার নির্মাণ সংক্রান্তে অবকাঠামো নির্মাণে বন্দর অডিটরিয়ামে আয়োজন করা হয় এই সভায়। এতে যোগ দেন প্রকল্পের অর্থের যোগানদাতা বিশ্বব্যাংকসহ প্রকল্পে অংশ গ্রহেনুচ্ছু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সভায় যোগ দিয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পটির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্পটিতে থাকছে একটি ১৫শ’ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং দুটি ১২২৫ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার টার্মিনাল। থাকছে দুটি সুবিশাল ট্রাক ওয়েটিয় এরিয়া। এতে বছরে কন্টেইনার হ্যান্ডিলিং হবে ৩৬লাখ টিইইউএস এবং ৫৯ মেট্রিক টন কার্গো । বৃহদাকৃতির মাদার ভ্যাসেল নোঙ্গর করাতে তৈরি করা হচ্ছে নেভিগেশন চ্যানেল, সমুদ্রের বিশাল ঢেউ থেকে বন্দর কে রক্ষা করতে নির্মাণ করা হচ্ছে শক্তিশালী ব্রেকওয়াটার।
প্রকল্পটির অর্থের যোগানদাতা বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটিতে সংস্থাটি ঋণ দিয়েছে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রকল্পটির কাজ শুরু করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি।
নতুন এই বন্দরকে ঘিরে যে সম্ভবনা তৈরি হয়েছে তাতে দেশের অর্থনীতির জন্য বে টার্মিনাল হবে 'গেম চেঞ্জার'। এখান থেকে সরাসরি পণ্য নিয়ে বিশ্বশে;র বিভিন্নদেশসহ ইউরোপে জাহাজ চালাচল করতে পারবে, দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে বলেও জানান বন্দর চেয়ারম্যান। বলেন, বে টার্মিনাল না হওয়া প্রতিদিন বন্দরকে এক মিলিয়ন ডলার গচ্ছা দিতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম
মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের টার্গেট হলো যে, বে টার্মিনালের
‘টার্মিনাল-ওয়ান’ ২০৩০ সালের মধ্যে অপারেশনে নিয়ে যাওয়া। আমরা যদি আগামী
বছরের মাঝামাঝিতে কাজ শুরু করতে পারি আমার মনে হয় এটা সম্ভব।
আমরা যে প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছি সবই পাবলিক
প্রাইভেট পার্টনারশিপের গাইডলাইনের শতভাগ স্টেপ মেনে নেওয়া হয়েছে।
অভূতপূর্ব একটা অগ্রগতি হচ্ছে। আমি আশাকরি, আগামী কয়েকমাসের মধ্যে
ইনশাআল্লাহ একটা সাকসেস স্টোরি আপনাদের দেখাতে পারব।
এক প্রশ্নের
উত্তরে তিনি বলেন, মাল্টিপারপাস টার্মিনালে কনটেইনার ও জেনারেল কার্গো দুই
ধরনের জাহাজ হ্যান্ডলিং করা যাবে। গিয়ার ভ্যাসেল আস্তে আস্তে উঠে যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ বাস্তবমুখী চিন্তা করে আমাদের টার্মিনালে গিয়ারলেস ভ্যাসেল
অপারেশনের সুযোগ রাখতে হবে। এ টার্মিনালে ফুল ইফিশিয়েন্সি মেইনটেইনের জন্য
অবশ্যই আমাদের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কে কী বললো আমাদের কাছে এ
ধরনের প্রশ্ন আসেনি।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের প্রতিটি
প্রকল্পে মার্কেট বিজনেস, ফিন্যান্সিয়াল রিটার্ন, সোশ্যাল, এনভায়রনমেন্টাল
ইত্যাদি দিক নিয়ে ওয়ার্ল্ডক্লাস পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আশাকরি,
আমরা যে প্রকল্প করবো তা জাতির জন্য গর্ব করার মতো হবে। শতবর্ষের টার্গেট
নিয়ে আমরা কাজ করবো। যাতে বড় দুর্যোগেও ইফেকটেড না হয়। বিশ্বমানের প্রকল্প
হবে এটি। বে টার্মিনাল দিয়েই আমরা ইউরোপের দিকে সরাসরি জাহাজ পাঠাতে
পারবো। আমরা চাই বাংলাদেশ রিজিওনাল ম্যানুফেকচারিং হাব হোক। এর জন্য অবশ্যই
আমাদের নিশ্চিন্ত মার্কেট থাকতে হবে। এর জন্য ২৪ ঘণ্টা চ্যানেল অপারেশন,
বড় জাহাজ অপারেট করতে হবে এবং ইফিশিয়েন্ট অপারেশন থাকতে হবে গ্লোবাল
কমপ্লায়েন্স অনুযায়ী। সেই আলোকেই বে টার্মিনাল হচ্ছে। বে টার্মিনাল হলে
দেখবেন বাংলাদেশে ম্যানুফেকচারিং ইনভেস্টমেন্টের জোয়ার বইছে। এখানে বিনিয়োগ
করার জন্য পৃথিবীর বড় বড় কোম্পানি যোগাযোগ করছে। প্রতিদিন ১ মিলিয়ন ডলার
লস হচ্ছে বে টার্মিনাল না থাকার কারণে। তিন বছরে ১ মিলিয়ন ডলার উঠে আসবে।
কত বড় লস। আমাদের সক্ষমতার দুয়ার খুলবে বে টার্মিনাল।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বছরে ৩৩ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করা হয়। বে টার্মিনাল নির্মিত হলে হ্যান্ডেলিং সক্ষমতা বেড়ে ৫০ লাখ টিইইউএস-এ উন্নীত হবে। এরমধ্যে প্রকল্পে বিনিয়োগে যুক্ত হচ্ছে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি ও দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। এসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে প্রায় দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ।পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে বে টার্মিনাল চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

