:

শিয়ালবাড়ি গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকান্ডে নিহত ১৬

top-news

রাজধানীর রূপনগরের শিয়ালবাড়ি গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকান্ডে  ১৬ জন নিহতের খবর নিশি^ত করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে, নিহতদের এখনো পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি। 

এদিকে, ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনে মৃতদের মুখ পুরো ঝলসে যাওয়ায় তাদের  পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন। 
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রূপনগরে আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৬জন নিহত হয়েছে।  ফায়ার সার্ভিস অভিযান অব্যহত রাখার কথা জানিয়ে জানায়, উদ্ধার অভিযানে প্রথমে  ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করলেও  পরে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা করে। উদ্ধার করা মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।  

এদিকে, সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চারতলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রচন্ড তাপে তাদের মুখ সম্পূর্ণ ঝলসে যায়, ফলে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত সম্ভব হচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই পরিচয় শনাক্ত করতে হবে।'

নিহতরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার মাঝখানে আটকা পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল বলেন, 'রাসায়নিক বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা অচেতন হয়ে সঙ্গে সঙ্গে মারা যান।''আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। ভেতরে আটকা পড়া ব্যক্তিরা তখন জ্ঞান হারান এবং আর বের হতে পারেননি।

আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নির্বাপনে অংশ নেয় বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা। 

এদিকে, সন্ধ্যায় গার্মেন্টস অংশের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও পাশের রাসায়নিক গুদামে আগুন এখনো জ্বলছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।

রাসায়নিক গুদামে প্রবেশ করা এখনো বিপজ্জনক বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল। তিনি বলেন, 'গুদামে উদ্ধার অভিযান শুরু করা যায়নি, কারণ ভেতরে প্রবেশ করা নিরাপদ নয়। লুপ মনিটর ও ড্রোন ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

মঙ্গলবার  বেলা ১১টা ৪০মিনিটের দিকে গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

স্থানীয় শ্রমিক ও বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিস জানায় 'ওই গুদামে ৬-৭ ধরনের রাসায়নিক রাখা ছিল। এর মধ্যে ব্লিচিং পাউডার, পটাশ, এনজাইম, লবণ ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ছিল। রাসায়নিকের কারণে ভেতরে সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুন জ্বলছে, ধোঁয়া বের হচ্ছে, আগুন নেভাতে আরও সময় লাগবে বলেও জানায় ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ১৬টি মরদেহ শনাক্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকান্ড কবলিত পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদাম দুটির কোনোটির অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স বা অনুমোদন ছিল না বলে দাবি ফায়ার সার্ভিসের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *