সারা দেশে ৩৯০ কন্যাশিশু ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 05 Oct, 2025
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) সারা দেশে ৩৯০ কন্যাশিশু ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম আট মাসে শিকার হয়েছিল ২২৪ জন। এছাড়া নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫৪ কন্যাশিশু। শিশু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১০৪টি। এ সময়ে ৩৪ শিশু অপহরণ ও পাচারের শিকার হয়েছে, যা ২০২৪ সালের দ্বিগুণ।
এসব তথ্য উঠে এসেছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতার চিত্র পর্যবেক্ষণ বিষয়ক এক প্রতিবেদনে। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছে এডুকো বাংলাদেশ। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ফোরামের গবেষণা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে মোট ৫৪ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়, যা গত বছরের একই সময়ের দ্বিগুণ। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৮। তবে ২০২৩ সালে ছিল আরো বেশি (১১৭ জন)। এসব যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে পথেঘাটে, যানবাহনে, বাজারে, পাবলিক প্লেসে, এমনকি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বাসাবাড়িতে। চলতি বছরের এ সময়ে ৩৯০ জন কন্যাশিশু ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে ৪৩ জন গণধর্ষণ ও ২৯ জন প্রতিবন্ধী কন্যাশিশু। ধর্ষণ ও গণধর্ষণের পর ১৫ জন কন্যাশিশু খুন হয়েছে ও পাঁচজন আত্মহত্যা করেছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে ২২৪ জন ও ২০২৩ সালে ৪৯৩ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
এছাড়া পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, স্বামী-স্বামীর পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন এবং পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও অন্যদের উপহাসের কারণে একজন করে মোট চারজন আত্মহত্যা করে। গত বছর প্রথম আট মাসে ১৩৩ জন কন্যাশিশু আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
২০২৫-এর আট মাসে ৮৩ জন কন্যাশিশু খুন হয়েছে, গত বছর ছিল ৮১ জন। ধর্ষণের পর ১৫ জন, যৌতুকের জন্য ৪, পারিবারিক নির্যাতনে ৩১, পূর্বশত্রুতায় ৯ ও প্রেমের সম্পর্কের কারণে ৫ জন খুন হয়। ১৯ জন কন্যাশিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।
এছাড়া ৫০ কন্যাশিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-আগস্ট ২০ কন্যাশিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়, যাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। গত আট মাসে ১৯ কন্যাশিশু নিজ গৃহে ও স্বামীগৃহে সহিংসতার শিকার হয়। গত আট মাসে চার কন্যাশিশু যৌতুকের জন্য খুন হয় এবং একজন যৌতুকের জন্য নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে। এ সময়ে পানিতে ডুবে মারা যায় ২০৫ কন্যাশিশু, যা গত বছর একই সময়ে ১৮৭ জন ছিল।
প্রতিবেদনে কন্যাশিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অন্যতম কারণ হিসেবে আইন বাস্তবায়নে শিথিলতাকে দায়ী করা হয়েছে। কন্যাশিশু নির্যাতন বন্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা, প্রচলিত আইনের বিধান সংশোধন করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল গঠনে কঠোর নির্দেশনা মনিটরিংয়ের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা, নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করা, শিশু সুরক্ষায় পৃথক অধিদপ্তর গঠন, সব ধরনের পর্নোগ্রাফিক সাইট বন্ধ করা, সাইবার বুলিংয়ের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাসহ নানা সুপারিশ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক নিশাত সুলতানা, অ্যাডভোকেট ফাহমিদা রিংকী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ও অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের জাতীয় সমন্বয়কারী আহসানা জামান এ্যানী।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

